ব্যবসা করার আগে বাংলাদেশে একটি কোম্পানি কীভাবে যাচাই করবেন?

ব্যবসা করার আগে বাংলাদেশে একটি কোম্পানি কীভাবে যাচাই করবেন?

বাংলাদেশে কোম্পানি, সরবরাহকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদার যাচাইয়ের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা

 

মো. জয়নাল আবদিন
ব্যবসা পরামর্শক | উদ্যোক্তা | আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ (টিঅ্যান্ডআইবি)
মহাসচিব, ব্রাজিল বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিবিসিসিআই)

 

নতুন কোনো কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সবসময়ই কিছু ঝুঁকি থাকে। সম্ভাব্য ক্রেতা, সরবরাহকারী, পরিবেশক, উৎপাদনকারী, প্রতিনিধি কিংবা ব্যবসায়িক অংশীদার যদি অন্য কোনো দেশে অবস্থান করে, তাহলে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। অর্থ পাঠানো, চুক্তি স্বাক্ষর, পণ্যের ক্রয়াদেশ প্রদান, পরিবেশক নিয়োগ কিংবা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের আগে একটি মৌলিক বিষয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানিটি কি সত্যিই বৈধ, আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং বাণিজ্যিকভাবে নির্ভরযোগ্য?

 

বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ও পণ্য সংগ্রহের গন্তব্য। তৈরি পোশাক, বস্ত্র, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও পাদুকা, ওষুধ, সিরামিক, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, হস্তশিল্প, প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন শিল্পে বাংলাদেশের শক্তিশালী উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। দেশজুড়ে হাজার হাজার বৈধ উৎপাদনকারী, রপ্তানিকারক, আমদানিকারক, পরিবেশক এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

 

তবে অনলাইনে কোনো কোম্পানির নাম খুঁজে পাওয়া মানেই প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা করার জন্য উপযুক্ত এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয়। একটি আকর্ষণীয় ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতা, সুন্দর পণ্যতালিকা কিংবা আকর্ষণীয় মূল্যপ্রস্তাব কখনোই যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের বিকল্প হতে পারে না।

 

তাই আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী এবং বাংলাদেশে সরবরাহকারী, উৎপাদনকারী, পরিবেশক বা ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজছেন এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে বাণিজ্যিক যথাযথ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

এই নির্দেশিকায় বাংলাদেশে একটি কোম্পানি কীভাবে যাচাই করবেন, কী কী নথি সংগ্রহ করবেন, কোন কোন সরকারি নিবন্ধন পরীক্ষা করবেন, একজন সরবরাহকারী বা ব্যবসায়িক অংশীদারের অতীত কার্যক্রম কীভাবে অনুসন্ধান করবেন এবং কোন কোন সতর্কসংকেতের দিকে বিশেষ নজর রাখবেন এসব বিষয় ধাপে ধাপে আলোচনা করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশে কোম্পানি যাচাই কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কোম্পানি যাচাই হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বাস্তবে বিদ্যমান, ঘোষিত ঠিকানায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সংশ্লিষ্ট ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও অনুমতিপত্র রয়েছে এবং প্রস্তাবিত ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পাদনের সক্ষমতা ও আইনগত অধিকার রাখে।

 

বিশেষ করে নিচের পরিস্থিতিতে কোম্পানি যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  • বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের সময়;
  • পরিবেশক বা বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগের সময়;
  • আমদানিকারক বা স্থানীয় প্রতিনিধি নির্বাচনের সময়;
  • উৎপাদনের ক্রয়াদেশ দেওয়ার সময়;
  • অগ্রিম অর্থ প্রদানের সময়;
  • যৌথ উদ্যোগ গঠনের সময়;
  • স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিনিধি নিয়োগের সময়;
  • কোনো বিদ্যমান ব্যবসায় বিনিয়োগের সময়;
  • বাকিতে পণ্য ক্রয় বা বিক্রয়ের সময়;
  • দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি করার সময়; অথবা
  • উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক ঝুঁকিসংবলিত যেকোনো লেনদেনের ক্ষেত্রে।

 

কোম্পানি যাচাইয়ের উদ্দেশ্য শুধু প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন সনদ আছে কি না, তা নিশ্চিত করা নয়। একটি কোম্পানি আইনগতভাবে নিবন্ধিত হতে পারে, কিন্তু তারপরও আপনার চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উৎপাদন সক্ষমতা, আর্থিক সামর্থ্য, সরকারি অনুমোদন কিংবা ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা না-ও থাকতে পারে।

 

তাই একটি কার্যকর কোম্পানি যাচাই প্রক্রিয়ায় নিচের বিষয়গুলো পরীক্ষা করা উচিত:

আইনগত অস্তিত্ব + মালিকানা + বাস্তব অবস্থান + আইন বিধিবিধান অনুসরণ + পরিচালন সক্ষমতা + আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতা + বাজারে সুনাম।

 

১. কোম্পানির সঠিক আইনগত নাম শনাক্ত করুন

প্রথম ধাপটি খুব সাধারণ মনে হলেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ আইনগত বা নিবন্ধিত নাম সংগ্রহ করুন। শুধু কোম্পানির ওয়েবসাইট, পণ্যের মোড়ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতা বা প্রচারসামগ্রীতে প্রদর্শিত বাণিজ্যিক নামের ওপর নির্ভর করবেন না। কোনো পণ্যের বাণিজ্যিক নাম এবং সেই ব্যবসা পরিচালনাকারী আইনগত প্রতিষ্ঠানের নাম ভিন্ন হতে পারে।

 

উদাহরণস্বরূপ, কোনো প্রতিষ্ঠান “এবিসি ফুডস” নামে পণ্য বাজারজাত করতে পারে, অথচ ব্যবসাটি আইনগতভাবে “এবিসি কনজ্যুমার প্রোডাক্টস লিমিটেড” নামে নিবন্ধিত হতে পারে।

কোম্পানিটির কাছ থেকে নিচের তথ্যগুলো সংগ্রহ করুন:

  • পূর্ণ নিবন্ধিত নাম;
  • নিবন্ধিত কার্যালয়ের ঠিকানা;
  • কারখানার ঠিকানা, যদি প্রযোজ্য হয়;
  • কোম্পানি নিবন্ধন নম্বর;
  • প্রতিষ্ঠার বছর;
  • পরিচালক, স্বত্বাধিকারী বা অংশীদারদের নাম;
  • টেলিফোন নম্বর;
  • প্রাতিষ্ঠানিক বৈদ্যুতিন ডাক ঠিকানা;
  • ওয়েবসাইটের ঠিকানা;
  • করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর;
  • ব্যবসায় শনাক্তকরণ নম্বর, যেখানে প্রযোজ্য; এবং
  • ব্যবসায়িক অনুমতিপত্রের বিস্তারিত তথ্য।

 

বিভিন্ন নথিতে দেওয়া তথ্য একে অপরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। কোম্পানির নামের বানান, ঠিকানা, মালিকানা বা নিবন্ধন নম্বরে কোনো অমিল থাকলে ব্যবসা শুরু করার আগে তার গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা সংগ্রহ করুন।

 

২. যৌথ মূলধন কোম্পানি ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের মাধ্যমে নিবন্ধন যাচাই করুন

নিবন্ধিত কোম্পানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যাচাইগুলোর একটি হলো যৌথ মূলধন কোম্পানি ফার্মসমূহের পরিদপ্তর বা আরজেএসসির নথি পরীক্ষা করা। এটি বাংলাদেশে কোম্পানি ও ফার্ম নিবন্ধনের অন্যতম প্রধান সরকারি কর্তৃপক্ষ। কোম্পানি গঠন, বিভিন্ন বিবরণী দাখিল, সত্যায়িত অনুলিপি, কোম্পানির তথ্য এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক নথি সংরক্ষণ ও সেবার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি জড়িত।

 

সম্ভাব্য কোম্পানিটির কাছ থেকে তাদের:

কোম্পানি নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করুন। একটি সীমিত দায়বদ্ধ কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সংগ্রহ করতে পারেন:

  • সংঘস্মারক;
  • সংঘবিধি;
  • পরিচালক ও অংশীদারদের প্রাসঙ্গিক তথ্য;
  • সর্বশেষ দাখিল করা প্রাসঙ্গিক আইনগত বিবরণী; এবং
  • প্রয়োজন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক নথির সত্যায়িত অনুলিপি।

 

কী কী যাচাই করবেন?

পরীক্ষা করুন:

১. চুক্তি ও চালানে ব্যবহৃত নামটি কোম্পানির আইনগত নামের সঙ্গে মিলছে কি না।
২. নিবন্ধন নম্বর সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।
৩. কোম্পানিটি যে আইনগত অবস্থার দাবি করছে তা সঠিক কি না।
৪. পরিচালক বা অনুমোদিত প্রতিনিধির তথ্য প্রাতিষ্ঠানিক নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।
৫. কোম্পানির ঘোষিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম তার সাংগঠনিক নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।
৬. মালিকানা বা পরিচালনা পর্ষদের বড় কোনো পরিবর্তন হয়ে থাকলে তা যথাযথভাবে নথিভুক্ত হয়েছে কি না।

 

উচ্চমূল্যের লেনদেনের ক্ষেত্রে শুধু সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারের পাঠানো নথির অনুলিপির ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি উৎস থেকে সত্যায়িত প্রাতিষ্ঠানিক নথি সংগ্রহ করা উচিত।

ব্যবসা করার আগে বাংলাদেশে একটি কোম্পানি কীভাবে যাচাই করবেন?
ব্যবসা করার আগে বাংলাদেশে একটি কোম্পানি কীভাবে যাচাই করবেন?

৩. ব্যবসায়িক অনুমতিপত্র যাচাই করুন

বাংলাদেশের কোনো ব্যবসা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক অনুমতিপত্র বা ট্রেড লাইসেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান যেমন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ এই অনুমতিপত্র প্রদান করে। এটি সাধারণত নির্দিষ্ট সময় পরপর নবায়ন করতে হয়। কোম্পানিটির বর্তমান ব্যবসায়িক অনুমতিপত্রের অনুলিপি সংগ্রহ করে নিচের বিষয়গুলো পরীক্ষা করুন:

  • ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম;
  • মালিক বা কোম্পানির নাম;
  • ব্যবসার ঠিকানা;
  • ব্যবসার ধরন;
  • অনুমতিপত্র নম্বর;
  • অনুমতিপত্র প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ;
  • প্রদান ও নবায়নের তথ্য; এবং
  • বর্তমান বৈধতা।

 

এখানে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো:

ব্যবসায়িক অনুমতিপত্রে উল্লেখ করা ব্যবসার ধরনটি কোম্পানিটি যে ধরনের ব্যবসা পরিচালনার দাবি করছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না?

 

কেউ যদি নিজেকে একটি বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করে অথচ তার নথিপত্রে শুধু একটি ছোট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে আরও গভীরভাবে যাচাই করা উচিত।

একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বাস্তব ঠিকানাও যাচাই করা জরুরি।

 

৪. করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর যাচাই করুন

বাংলাদেশে করযোগ্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত কর নিবন্ধন থাকা প্রয়োজন। কোম্পানিটির করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরের সনদ সংগ্রহ করুন।

 

সনদের তথ্য নিচের নথিগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন:

  • কোম্পানির নাম;
  • নিবন্ধিত ঠিকানা;
  • কোম্পানি নিবন্ধনের নথি;
  • ব্যবসায়িক অনুমতিপত্র; এবং
  • অন্যান্য সরকারি নথি।

 

তবে শুধু করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর থাকলেই কোম্পানিটি আর্থিকভাবে শক্তিশালী বা বাণিজ্যিকভাবে নির্ভরযোগ্য এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয়। এটি সামগ্রিক যাচাই প্রক্রিয়ার একটি অংশ মাত্র।

 

বড় চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন, গোপনীয়তা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ভিত্তিতে উপযুক্ত পেশাদার পরামর্শকের মাধ্যমে কর পরিপালনসংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক তথ্যও পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

 

৫. ব্যবসায় শনাক্তকরণ নম্বর মূল্য সংযোজন কর নিবন্ধন যাচাই করুন

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ যাচাইয়ের বিষয় হলো কোম্পানির ব্যবসায় শনাক্তকরণ নম্বর, যেখানে মূল্য সংযোজন কর নিবন্ধন বা তালিকাভুক্তি প্রযোজ্য। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ব্যবস্থায় ব্যবসায় শনাক্তকরণ নম্বরসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে।

 

সনদ পরীক্ষা করার সময় মিলিয়ে দেখুন:

  • কোম্পানির আইনগত নাম;
  • ব্যবসায়িক নাম;
  • ঠিকানা;
  • ব্যবসায় শনাক্তকরণ নম্বর;
  • প্রাসঙ্গিক ব্যবসায়িক তথ্য; এবং
  • সরকারি ব্যবস্থায় প্রদর্শিত বর্তমান অবস্থা।

 

কোনো সরবরাহকারী যদি মূল্য সংযোজন কর দাবি করে কিন্তু উপযুক্ত নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য দিতে না পারে, তাহলে ব্যবসায়িক লেনদেন শুরু করার আগে বিষয়টি আরও গভীরভাবে যাচাই করুন।

 

৬. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আমদানি বা রপ্তানি নিবন্ধন যাচাই করুন

কোনো কোম্পানি যদি নিজেকে আমদানিকারক বা রপ্তানিকারক হিসেবে দাবি করে, তাহলে সেই কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করুন।

 

লেনদেনের ধরন অনুযায়ী এর মধ্যে থাকতে পারে: আমদানি নিবন্ধন সনদ অথবা
রপ্তানি নিবন্ধন সনদ।

 

শুধু একটি সাধারণ ব্যবসায়িক অনুমতিপত্র থাকার কারণে কোনো কোম্পানি সব ধরনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।

 

প্রাসঙ্গিক সনদের অনুলিপি সংগ্রহ করে পরীক্ষা করুন:

  • নিবন্ধনধারীর নাম;
  • ঠিকানা;
  • নিবন্ধন নম্বর;
  • বৈধতা ও নবায়নসংক্রান্ত তথ্য;
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যবসার শ্রেণি; এবং
  • অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক নথির সঙ্গে তথ্যের সামঞ্জস্য।

 

নিয়ন্ত্রিত পণ্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।

 

৭. খাতভিত্তিক অনুমতিপত্র সনদ যাচাই করুন

বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার জন্য বিভিন্ন ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন। তাই বাংলাদেশের প্রতিটি কোম্পানির জন্য একই নথির তালিকা প্রযোজ্য নয়। একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানি, পোশাক কারখানা, রাসায়নিক পণ্য আমদানিকারক এবং নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক নথিপত্র এক হবে না। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী নিচের বিষয়গুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনুমতিপত্র বা সনদ পরীক্ষা করুন:

  • পণ্যের মান ও মাননিয়ন্ত্রণ সনদ;
  • খাদ্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত অনুমোদন;
  • ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন;
  • পরিবেশগত ছাড়পত্র;
  • অগ্নিনিরাপত্তা সনদ;
  • কারখানা পরিচালনার অনুমোদন;
  • শিল্প নিবন্ধন;
  • আমদানি ও রপ্তানি অনুমোদন;
  • শুল্কমুক্ত গুদাম পরিচালনার অনুমতি; এবং
  • খাতভিত্তিক অন্যান্য নিয়ন্ত্রক অনুমোদন।

 

প্রয়োজনীয় নথির সঠিক তালিকা নির্ধারণ করতে হবে পণ্য, শিল্পখাত এবং প্রস্তাবিত লেনদেনের প্রকৃতি অনুযায়ী।

 

৮. ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বাস্তব ঠিকানা যাচাই করুন

কোম্পানি যাচাইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ও কার্যকর পদ্ধতিগুলোর একটি হলো: প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করা। নথিপত্র একটি প্রতিষ্ঠানের আইনগত অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারে, কিন্তু সরেজমিন পরিদর্শন তার বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেয়। গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে কোম্পানির নিচের যেকোনো স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শনের ব্যবস্থা করুন:

  • নিবন্ধিত কার্যালয়;
  • প্রধান কার্যালয়;
  • কারখানা;
  • গুদাম;
  • প্রদর্শনী ও বিক্রয়কেন্দ্র; অথবা
  • বিতরণকেন্দ্র।

 

পরিদর্শনের সময় কোম্পানির নথিতে উল্লেখ করা ঠিকানার সঙ্গে বাস্তব ঠিকানা মিলিয়ে দেখুন।

কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরীক্ষা করুন:

  • কারখানার আকার;
  • উৎপাদন লাইনের সংখ্যা;
  • যন্ত্রপাতি;
  • শ্রমিক ও কর্মচারীর সংখ্যা;
  • কাঁচামাল সংরক্ষণের ব্যবস্থা;
  • প্রস্তুত পণ্যের মজুত;
  • মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা;
  • গুদামের ধারণক্ষমতা;
  • স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা; এবং
  • বাস্তবে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে কি না।

 

এভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব কোনো প্রতিষ্ঠান নিজেকে উৎপাদনকারী হিসেবে উপস্থাপন করছে, অথচ বাস্তবে তারা শুধু ব্যবসায়ী বা মধ্যস্থতাকারী। ব্যবসায়ী বা মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে ব্যবসা করায় কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা তখনই সৃষ্টি হয়, যখন কোনো প্রতিষ্ঠান তার প্রকৃত ভূমিকা সম্পর্কে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করে।

টিঅ্যান্ডআইবির ডিলার ও পরিবেশক নিয়োগ সেবা
বাংলাদেশে ডিলার ও পরিবেশক নিয়োগ

৯. পরিচালক, মালিক এবং অনুমোদিত প্রতিনিধি যাচাই করুন

আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে আপনি প্রকৃতপক্ষে কার সঙ্গে ব্যবসা করছেন। কোম্পানির নিচের ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করুন:

  • চেয়ারম্যান;
  • ব্যবস্থাপনা পরিচালক;
  • পরিচালকবৃন্দ;
  • স্বত্বাধিকারী;
  • অংশীদার;
  • প্রধান নির্বাহী;
  • অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী; এবং
  • প্রধান বাণিজ্যিক যোগাযোগ ব্যক্তি।

 

বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে নিশ্চিত করুন যে আপনার সঙ্গে আলোচনা বা চুক্তি স্বাক্ষরকারী ব্যক্তির কোম্পানিকে প্রতিনিধিত্ব করার যথাযথ ক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংগ্রহ করতে পারেন:

  • পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত;
  • অনুমোদনপত্র; অথবা
  • আমমোক্তারনামা।

 

বিশেষ করে নিচের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  • একচেটিয়া পরিবেশক নিয়োগ;
  • যৌথ উদ্যোগের চুক্তি;
  • উল্লেখযোগ্য সম্পদ ক্রয়;
  • বড় অঙ্কের অগ্রিম অর্থ প্রদান; অথবা
  • দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি।

 

১০. ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাই করুন

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অর্থপ্রদানসংক্রান্ত প্রতারণা একটি গুরুতর ঝুঁকি। অর্থ পাঠানোর আগে প্রাপকের ব্যাংক হিসাব অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করুন। সাধারণভাবে একটি সীমিত দায়বদ্ধ কোম্পানিকে অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আইনগত নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবে অর্থ প্রদান করা অধিক নিরাপদ। অসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগত হিসাবে অর্থ পাঠানো থেকে বিরত থাকা উচিত।

 

মিলিয়ে দেখুন:

কোম্পানির আইনগত নাম → চালান → চুক্তি → ব্যাংক হিসাবধারীর নাম।

 

কোনো সরবরাহকারী হঠাৎ করে নিচের ধরনের হিসাবে অর্থ পাঠাতে বললে সতর্ক হোন:

  • ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব;
  • অন্য কোনো কোম্পানির ব্যাংক হিসাব;
  • লেনদেনের সঙ্গে সম্পর্কহীন বিদেশি ব্যাংক হিসাব; অথবা
  • হঠাৎ পরিবর্তন করা নতুন ব্যাংক হিসাব।

 

শেষ মুহূর্তে ব্যাংক হিসাব পরিবর্তনের নির্দেশনা এলে আগে থেকে যাচাই করা যোগাযোগের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে সেই পরিবর্তনের সত্যতা নিশ্চিত করুন। বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকের সনদ বা হিসাব নিশ্চিতকরণপত্র সংগ্রহ করা যেতে পারে।

 

১১. কোম্পানির ব্যবসায়িক ইতিহাস যাচাই করুন

নিবন্ধন কোম্পানির আইনগত অস্তিত্ব প্রমাণ করে। কিন্তু এটি কোম্পানির ব্যবসায়িক সক্ষমতা প্রমাণ করে না। প্রশ্ন করুন: কোম্পানিটি প্রকৃতপক্ষে কত বছর ধরে এই নির্দিষ্ট ব্যবসায় নিয়োজিত?

 

যাচাই করুন:

  • প্রতিষ্ঠার বছর;
  • প্রধান পণ্য;
  • রপ্তানি অভিজ্ঞতা;
  • প্রধান বাজার;
  • গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক;
  • উৎপাদন সক্ষমতা;
  • কর্মচারীর সংখ্যা;
  • পূর্ববর্তী কাজ;
  • বিতরণব্যবস্থা; এবং
  • সংশ্লিষ্ট শিল্পে অভিজ্ঞতা।

 

একটি নতুন কোম্পানি মানেই অবিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান নয়। নতুন ব্যবসাও অত্যন্ত ভালো ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে পারে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি “২০ বছরের উৎপাদন অভিজ্ঞতা” থাকার দাবি করে, তাহলে সেই দাবির পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকা উচিত।

 

১২. গ্রাহক সরবরাহকারীর তথ্যসূত্র সংগ্রহ করুন

বড় ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেনের আগে দুই বা তিনটি ব্যবসায়িক তথ্যসূত্র চাইতে পারেন। এর মধ্যে থাকতে পারে:

  • বিদ্যমান গ্রাহক;
  • বিদেশি ক্রেতা;
  • সরবরাহকারী;
  • পরিবহন ও পণ্য পরিবহন সহযোগী;
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যাংক; অথবা
  • সংশ্লিষ্ট শিল্পের পরিচিত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি।

 

শুধু সুপারিশপত্র সংগ্রহ করেই থেমে যাবেন না। প্রাসঙ্গিক ও অনুমোদিত ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

 

প্রশ্ন করতে পারেন:

  • কতদিন ধরে এই কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করছেন?
  • কোম্পানিটি কী ধরনের পণ্য বা সেবা সরবরাহ করেছে?
  • সাধারণত সম্মত শর্ত অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করে কি?
  • পণ্যের মানসংক্রান্ত সমস্যা হলে কীভাবে সমাধান করে?
  • তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা কি পেশাদার?
  • ভবিষ্যতেও তাদের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যেতে আগ্রহী কি না?

 

স্বাধীন ব্যবসায়িক তথ্যসূত্র এমন অনেক তথ্য প্রকাশ করতে পারে, যা শুধু নিবন্ধনের নথি দেখে জানা সম্ভব নয়।

 

১৩. সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যপদ যাচাই করুন

স্বীকৃত বণিক সমিতি বা বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যপদ কোম্পানি যাচাইয়ে আরেকটি স্তর যোগ করতে পারে। তবে শুধু সদস্যপদ কোনো প্রতিষ্ঠানের নির্ভরযোগ্যতার নিশ্চয়তা নয়। শিল্পখাত অনুযায়ী পরীক্ষা করুন কোম্পানিটি সংশ্লিষ্ট:

  • বণিক সমিতি;
  • রপ্তানিকারক সমিতি;
  • উৎপাদনকারী সমিতি;
  • খাতভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠন; অথবা
  • দ্বিপক্ষীয় বণিক সমিতির সদস্য কি না।

 

সদস্যপদটি ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে স্বাধীনভাবে যোগাযোগ করে যাচাই করুন। শুধু কোম্পানির ওয়েবসাইটে কোনো সংগঠনের প্রতীক দেখেই সদস্যপদ নিশ্চিত বলে ধরে নেবেন না।

 

১৪. কোম্পানির অনলাইন উপস্থিতি যাচাই করুন

অনলাইন অনুসন্ধান বর্তমানে বাণিজ্যিক যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনলাইনে অনুসন্ধান করুন:

  • কোম্পানির আইনগত নাম;
  • ব্যবসায়িক বা পণ্যের নাম;
  • পরিচালকদের নাম;
  • ফোন নম্বর;
  • বৈদ্যুতিন ডাক ঠিকানা;
  • অফিসের ঠিকানা;
  • ওয়েবসাইটের ঠিকানা; এবং
  • পণ্যের নাম।

 

পর্যালোচনা করুন:

  • কোম্পানির ওয়েবসাইট;
  • পেশাজীবী যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি;
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতা;
  • অনলাইন ব্যবসায়িক পরিচিতি;
  • ব্যবসায়িক নির্দেশিকায় তালিকাভুক্তি;
  • সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য; এবং
  • শিল্পসংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্যসূত্র।

 

সব জায়গার তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না তা পরীক্ষা করুন। কোনো কোম্পানি যদি বহু বছরের আন্তর্জাতিক ব্যবসার দাবি করে কিন্তু অনলাইনে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রমের প্রায় কোনো যাচাইযোগ্য তথ্য না থাকে, তাহলে অতিরিক্ত অনুসন্ধান করা যুক্তিসঙ্গত।

 

তবে দুর্বল অনলাইন উপস্থিতি থাকলেই বাংলাদেশের কোনো ক্ষুদ্র বা মাঝারি প্রতিষ্ঠানকে অবিশ্বস্ত বলা যাবে না। অনেক প্রকৃত ও সক্ষম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এখনো অনলাইন প্রচারণায় তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

 

তাই অনলাইন তথ্যকে নথিভিত্তিক ও সরেজমিন যাচাইয়ের সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, বিকল্প হিসেবে নয়।

ব্যবসা করার আগে বাংলাদেশে একটি কোম্পানি কীভাবে যাচাই করবেন?
ব্যবসা করার আগে বাংলাদেশে একটি কোম্পানি কীভাবে যাচাই করবেন?

১৫. কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করুন

উচ্চমূল্যের চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক যথাযথ যাচাই-বাছাই বিবেচনা করুন। লেনদেনের প্রকৃতি ও আকার অনুযায়ী নিচের নথি বা তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন:

  • নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী;
  • ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার সনদ;
  • প্রাসঙ্গিক ঋণযোগ্যতার তথ্য;
  • বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ;
  • সম্পদ ও দায়সংক্রান্ত তথ্য;
  • আইনগতভাবে পাওয়া সম্ভব হলে বিদ্যমান ঋণসংক্রান্ত তথ্য; এবং
  • আর্থিক সক্ষমতার অন্যান্য প্রমাণ।

 

আর্থিক যাচাইয়ের গভীরতা আপনার সম্ভাব্য আর্থিক ঝুঁকির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। অল্প মূল্যের নমুনা পণ্য কেনার জন্য যে মাত্রার যাচাই প্রয়োজন, বড় অঙ্কের যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তার চেয়ে অনেক বেশি গভীর যাচাই প্রয়োজন। তাই ঝুঁকিভিত্তিক যাচাই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

 

১৬. মামলা, বিরোধ এবং নেতিবাচক তথ্য যাচাই করুন

বড় বিনিয়োগ বা চুক্তির ক্ষেত্রে কোম্পানি এবং এর প্রধান ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ বা নেতিবাচক তথ্য আছে কি না তা অনুসন্ধান করুন।

 

উপযুক্ত অনুসন্ধানের মধ্যে থাকতে পারে:

  • বাণিজ্যিক মামলা;
  • দেউলিয়াত্বসংক্রান্ত বিষয়;
  • নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যবস্থা;
  • গুরুতর চুক্তিগত বিরোধ;
  • সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতারণার অভিযোগ;
  • আইনগতভাবে পাওয়া গেলে ঋণখেলাপিসংক্রান্ত তথ্য; এবং
  • ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক সংবাদ।

 

তবে কোনো অভিযোগ প্রকাশিত হলেই সেটিকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তথ্যের উৎস কতটা বিশ্বাসযোগ্য, আইনি প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা কী এবং চূড়ান্ত ফলাফল কী হয়েছে এসব বিবেচনা করুন।

 

বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাদার আইনগত যাচাই-বাছাই করানো যুক্তিযুক্ত।

 

১৭. বড় ক্রয়াদেশের আগে উৎপাদন সক্ষমতা যাচাই করুন

ধরা যাক, একজন সরবরাহকারী দাবি করল: আমাদের কারখানা প্রতি মাসে ৫,০০,০০০ পিস পণ্য উৎপাদন করতে পারে।” শুধু এই বক্তব্য বিশ্বাস করবেন না।

 

যাচাই করুন:

  • উৎপাদন লাইনের সংখ্যা;
  • স্থাপিত যন্ত্রপাতির সংখ্যা ও ধরন;
  • কত পালায় উৎপাদন হয়;
  • কর্মীর সংখ্যা;
  • বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতার কত অংশ ব্যবহৃত হচ্ছে;
  • বিদ্যমান ক্রয়াদেশের পরিমাণ;
  • অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উৎপাদনের ব্যবস্থা আছে কি না;
  • পূর্ববর্তী উৎপাদনের তথ্য; এবং
  • সময়মতো পণ্য সরবরাহের ইতিহাস।

 

পণ্যের নমুনা যাচাই করলে পণ্যের মান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। কারখানা পরিদর্শন করলে উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। দুটি বিষয় এক নয়।

 

১৮. পণ্য গুণগত মান যাচাই করুন

বড় ক্রয়াদেশ দেওয়ার আগে পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করুন। যাচাই করুন:

  • কাঁচামাল;
  • মাপ;
  • ওজন;
  • উপাদানের গঠন;
  • কার্যক্ষমতা;
  • মোড়ক;
  • পণ্যের গায়ে প্রয়োজনীয় তথ্য;
  • রং;
  • স্থায়িত্ব; এবং
  • প্রয়োজনীয় মানসনদ।

 

প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাধীন পরিদর্শন বা পরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করুন।

 

আন্তর্জাতিক পণ্য সংগ্রহের একটি কার্যকর ধাপ হতে পারে:

নমুনা অনুমোদন → চুক্তি → উৎপাদন → জাহাজীকরণের পূর্বে পরিদর্শন → পণ্য প্রেরণ। মনে রাখবেন, একটি অনুমোদিত নমুনা ভালো হওয়া মানেই ব্যাপক উৎপাদনের সব পণ্য একই মানের হবে এমন নিশ্চয়তা নেই।

 

১৯. লিখিত বাণিজ্যিক চুক্তি করুন

যাচাই সম্পন্ন করার পর ব্যবসায়িক লেনদেন যথাযথভাবে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে নথিভুক্ত করুন। একটি ভালো বাণিজ্যিক চুক্তিতে সাধারণত নিচের বিষয়গুলো থাকা উচিত:

  • পক্ষগুলোর আইনগত নাম;
  • পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ;
  • পরিমাণ;
  • মূল্য;
  • মুদ্রার ধরন;
  • আন্তর্জাতিক সরবরাহের শর্ত;
  • পণ্য সরবরাহের সময়সূচি;
  • অর্থপ্রদানের শর্ত;
  • পরিদর্শনের শর্ত;
  • মানের শর্ত;
  • মোড়কীকরণ;
  • প্রয়োজনীয় নথিপত্র;
  • নিশ্চয়তা;
  • পণ্য প্রত্যাখ্যানের পদ্ধতি;
  • বিলম্বে সরবরাহের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা;
  • নিয়ন্ত্রণের বাইরে উদ্ভূত পরিস্থিতির বিধান;
  • গোপনীয়তা;
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব;
  • কোন দেশের আইন প্রযোজ্য হবে; এবং
  • বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতি।

 

বড় ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে যোগ্য আইনজীবীর মাধ্যমে চুক্তি পর্যালোচনা করানো উচিত।

 

২০. অগ্রিম অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন

কোনো কোম্পানি অগ্রিম অর্থ চাইলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সন্দেহজনক নয়। অনেক শিল্পেই অগ্রিম অর্থ প্রদান একটি স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পদ্ধতি।

 

ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে:

  • অর্থের পরিমাণ;
  • সরবরাহকারীর ব্যবসায়িক ইতিহাস;
  • বিশেষ চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরির প্রয়োজন;
  • উৎপাদনের ধরন;
  • আপনার সঙ্গে পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক সম্পর্ক; এবং
  • অর্থপ্রদানের নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর।

 

প্রথম লেনদেনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমাতে বিবেচনা করতে পারেন:

  • ছোট পরীক্ষামূলক ক্রয়াদেশ;
  • আংশিক অগ্রিম অর্থ প্রদান;
  • ব্যাংকের মাধ্যমে নথিভিত্তিক অর্থ আদায় ব্যবস্থা;
  • ঋণপত্র;
  • কাজের অগ্রগতি অনুযায়ী ধাপে ধাপে অর্থ প্রদান; অথবা
  • অন্যান্য নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থা।

 

অর্থপ্রদানের পদ্ধতি অবশ্যই লেনদেনের ঝুঁকির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।

 

বাংলাদেশি কোম্পানি যাচাইয়ের সময় গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত

কিছু সতর্কসংকেত দেখা গেলে আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করা উচিত।

 

সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদার যদি:

১. কোম্পানি নিবন্ধন বা ব্যবসায়িক নথি দিতে অস্বীকৃতি জানায়;
২. বিভিন্ন নথিতে কোম্পানির নাম বা ঠিকানা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়;
৩. বড় কোম্পানি দাবি করেও শুধু বিনামূল্যের বৈদ্যুতিন ডাক ঠিকানা ব্যবহার করে;
৪. অসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠাতে বলে;
৫. যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কারখানা বা অফিস পরিদর্শনে বাধা দেয়;
৬. অবাস্তব উৎপাদন সক্ষমতার দাবি করে;
৭. গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ছাড়া বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক কম মূল্য দেয়;
৮. দ্রুত অগ্রিম অর্থ প্রদানের জন্য অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করে;
৯. বিশ্বাসযোগ্য ব্যবসায়িক তথ্যসূত্র দিতে পারে না;
১০. সনদে সুস্পষ্ট অসামঞ্জস্য থাকে;
১১. বারবার ব্যাংক হিসাবের তথ্য পরিবর্তন করে;
১২. এমন সদস্যপদ বা সনদের দাবি করে যা যাচাই করা যায় না;
১৩. সরাসরি বা দৃশ্যমান যোগাযোগ এড়িয়ে চলে;
১৪. ব্যাখ্যা ছাড়া ভিন্ন আইনগত প্রতিষ্ঠানের নামে চালান প্রদান করে; অথবা
১৫. এমন ব্যবসায়িক দাবি করে যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয় তাহলে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন।

 

একটি সতর্কসংকেত থাকলেই প্রতারণা হয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। তবে একাধিক ব্যাখ্যাহীন সতর্কসংকেত একসঙ্গে পাওয়া গেলে যাচাই-বাছাইয়ের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো উচিত।

টিএন্ডআইবি বিজনেস ডিরেক্টরিতে আপনার প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করার শীর্ষ ১০টি সুবিধা
টিএন্ডআইবি বিজনেস ডিরেক্টরিতে আপনার প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করার শীর্ষ ১০টি সুবিধা

বাংলাদেশে কোম্পানি যাচাইয়ের ব্যবহারিক তালিকা

বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করার আগে নিচের বিষয়গুলো যাচাই করার কথা বিবেচনা করুন:

 

প্রাতিষ্ঠানিক যাচাই

☐ কোম্পানির আইনগত নাম
☐ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোম্পানি নিবন্ধন সনদ
☐ যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের নিবন্ধন তথ্য
☐ প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সংঘস্মারক ও সংঘবিধি
☐ পরিচালক, মালিক বা অংশীদার
☐ অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী

 

নিয়ন্ত্রক যাচাই

☐ বৈধ ব্যবসায়িক অনুমতিপত্র
☐ করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর
☐ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যবসায় শনাক্তকরণ নম্বর ও মূল্য সংযোজন কর নিবন্ধন
☐ প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে আমদানি বা রপ্তানি নিবন্ধন সনদ
☐ খাতভিত্তিক অনুমতিপত্র
☐ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবেশ, অগ্নিনিরাপত্তা ও কারখানা পরিচালনার অনুমোদন

 

বাস্তব অবস্থান কার্যক্রম যাচাই

☐ নিবন্ধিত কার্যালয়
☐ কারখানা
☐ গুদাম
☐ উৎপাদন যন্ত্রপাতি
☐ কর্মী ও শ্রমিক
☐ বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যক্রম

 

বাণিজ্যিক যাচাই

☐ ব্যবসায়িক ইতিহাস
☐ প্রধান পণ্য
☐ আমদানি ও রপ্তানি অভিজ্ঞতা
☐ গ্রাহকের তথ্যসূত্র
☐ সরবরাহকারীর তথ্যসূত্র
☐ বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যপদ
☐ বাজারে সুনাম

 

আর্থিক যাচাই

☐ কোম্পানির ব্যাংক হিসাব
☐ প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার সনদ
☐ বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী
☐ আর্থিক সক্ষমতা
☐ যেখানে পাওয়া যায় ঋণযোগ্যতার তথ্য

 

লেনদেনসংক্রান্ত যাচাই

☐ পণ্যের নমুনা
☐ উৎপাদন সক্ষমতা
☐ লিখিত মূল্যপ্রস্তাব
☐ বাণিজ্যিক চুক্তি
☐ অর্থপ্রদানের নিরাপত্তা
☐ পরিদর্শনের ব্যবস্থা
☐ পণ্য পরিবহন ও জাহাজীকরণের নথিপত্র

 

ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কীভাবে সহায়তা করতে পারে?

বিদেশি ক্রেতারা প্রায়ই একটি বাস্তব সমস্যার সম্মুখীন হন। তারা কোনো বাংলাদেশি কোম্পানির কাছ থেকে বিভিন্ন নথিপত্র পেতে পারেন, কিন্তু সেই কোম্পানির ব্যবসায়িক দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা যাচাই করার জন্য বাংলাদেশে তাদের নিজস্ব কোনো দল থাকে না।

 

এক্ষেত্রে পেশাদার বাণিজ্যিক যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং কোম্পানি যাচাই সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ (টিঅ্যান্ডআইবি) আন্তর্জাতিক ক্রেতা, রপ্তানিকারক, বিনিয়োগকারী এবং বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন করতে আগ্রহী বিদেশি কোম্পানিকে ব্যবসায়িক যাচাই ও বাজার সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে পারে।

 

কাজের ধরন এবং আইনগতভাবে প্রাপ্য তথ্যের ওপর নির্ভর করে একটি কোম্পানি যাচাই কার্যক্রমের মধ্যে থাকতে পারে:

  • কোম্পানির প্রাথমিক পরিচিতি ও অতীত কার্যক্রম অনুসন্ধান;
  • সরবরাহ করা ব্যবসায়িক নথিপত্র পর্যালোচনা;
  • কার্যালয়ের বাস্তব অবস্থান যাচাই;
  • কারখানা বা গুদাম পরিদর্শন;
  • ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক;
  • পণ্য ও উৎপাদন সক্ষমতা মূল্যায়ন;
  • ব্যবসায়িক তথ্যসূত্র যাচাই;
  • বাজারে সুনাম অনুসন্ধান;
  • সরবরাহকারী যাচাই;
  • ক্রেতা যাচাই;
  • পরিবেশক ও বিক্রয় প্রতিনিধি যাচাই;
  • ব্যবসায়িক ক্রেতা-বিক্রেতা সংযোগে সহায়তা; এবং
  • বাণিজ্যিক যথাযথ যাচাই-বাছাই প্রতিবেদন প্রস্তুতকরণ।

 

যেসব বিদেশি কোম্পানি তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের প্রতিনিধি বাংলাদেশে পাঠাতে পারে না, তাদের জন্য এ ধরনের সেবা বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। বড় ধরনের বিনিয়োগ, অধিগ্রহণ, যৌথ উদ্যোগ বা আইনগতভাবে সংবেদনশীল লেনদেনের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাদার আইনগত, আর্থিক, করসংক্রান্ত এবং কারিগরি যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা উচিত।

 

উপসংহার

আন্তর্জাতিক ব্যবসার একটি মৌলিক নীতি খুবই সহজ: আগে যাচাই করুন, তারপর ব্যবসা করুন। আন্তর্জাতিক পণ্য সংগ্রহ, উৎপাদন, পরিবেশনা, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে। হাজার হাজার দক্ষ ও সুনামসম্পন্ন বাংলাদেশি কোম্পানি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করতে প্রস্তুত।

 

তবে সফল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য শুধু অনলাইন অনুসন্ধান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা কোনো ব্যবসায়িক নির্দেশিকা থেকে একজন সরবরাহকারী খুঁজে পাওয়াই যথেষ্ট নয়। একটি যথাযথ কোম্পানি যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া উচিত:

কোম্পানিটি কি আইনগতভাবে বিদ্যমান?

কোম্পানিটির মালিক নিয়ন্ত্রক কারা?

কোম্পানিটি কি ঘোষিত ঠিকানায় বাস্তবে কার্যক্রম পরিচালনা করে?

ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র সরকারি অনুমোদন কি তাদের রয়েছে?

কোম্পানিটি কি সত্যিই দাবি অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন বা সরবরাহ করতে সক্ষম?

তাদের কি বিশ্বাসযোগ্য ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা রয়েছে?

ব্যাংক হিসাবটি কি প্রকৃত এবং কোম্পানিটির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত?

কোম্পানিটির ব্যবসায়িক দাবিগুলো কি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব?

 

আপনার আর্থিক ঝুঁকি যত বেশি হবে, যাচাইয়ের গভীরতাও তত বেশি হওয়া উচিত। ছোট একটি পরীক্ষামূলক ক্রয়াদেশের ক্ষেত্রে মৌলিক নথি যাচাই, পণ্যের নমুনা এবং নিরাপদ অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা যথেষ্ট হতে পারে। কিন্তু বড় সরবরাহ চুক্তি, পরিবেশক নিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ কিংবা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত বাণিজ্যিক, আর্থিক, আইনগত এবং পরিচালনাগত যাচাই-বাছাই করা অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত।

 

কোম্পানি যাচাইয়ের খরচ সাধারণত খুবই সামান্য বিশেষ করে ভুল সরবরাহকারী, পরিবেশক, ক্রেতা বা বিনিয়োগ অংশীদার নির্বাচনের কারণে যে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে, তার তুলনায়। বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী, উৎপাদনকারী, ক্রেতা, পরিবেশক বা ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজছেন এমন আন্তর্জাতিক কোম্পানির জন্য পেশাদার স্থানীয় যাচাই এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করতে পারে, যা তাদের আরও তথ্যভিত্তিক, নিরাপদ এবং বাস্তবসম্মত বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।

 

ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ (টিঅ্যান্ডআইবি): ব্যবসার সুযোগের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন

সেবাসমূহ: ব্যবসায়িক পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা | রপ্তানি সহায়তা | আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহায়তা | ক্রেতা-বিক্রেতা সংযোগ | পরিবেশক ও বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ | বাণিজ্যিক যথাযথ যাচাই-বাছাই | কোম্পানি যাচাই | বাজার গবেষণা | বিনিয়োগ উন্নয়ন ও প্রতিনিধিত্ব | ব্যবসায়িক বৈঠক ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদল

 

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these