Trade and Investment Bangladesh (T&IB)

By - Md. Joynal Abdin

ব্রাজিলে ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পাওয়ার উপায়

ব্রাজিলে ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পাওয়ার উপায়

 

মোঃ জয়নাল আব্দীন
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ (T&IB)
নির্বাহী পরিচালক, অনলাইন ট্রেনিং একাডেমি (OTA)
মহাসচিব, ব্রাজিল–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (BBCCI)

বাংলাদেশ ও ব্রাজিল বিশ্বের দুই প্রান্তের দুটি প্রাণবন্ত অর্থনীতি এখন বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সুযোগ আবিষ্কার করছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস ও প্রযুক্তি খাতে বৈশ্বিক খেলোয়াড় হিসেবে উঠে এসেছে, আর ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাজার এবং ২০২৬ সালের মধ্যে ৮ম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে (জিডিপি ২.৪৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার)। বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশের ব্রাজিলে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং ব্রাজিল থেকে বাংলাদেশের আমদানি ইতোমধ্যে বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছানো এই বাস্তবতা বাংলাদেশি ব্যবসাগুলোর জন্য ব্রাজিলে ক্রেতা, সরবরাহকারী বা যৌথ উদ্যোগ অংশীদার খোঁজার সময়কে আরও উপযুক্ত করে তুলেছে। এই নির্দেশিকাটি দ্বিপাক্ষিক সম্ভাবনা বোঝা থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে কৌশল পর্যন্ত ব্রাজিলে ক্রেতা, সরবরাহকারী, বা যৌথ উদ্যোগ অংশীদার খুঁজে পাওয়ার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রদান করে।

 

বাংলাদেশ–ব্রাজিল ব্যবসায়িক সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ব্রাজিল বাণিজ্য উর্ধ্বমুখী, যা উল্লেখযোগ্য অপ্রকাশিত সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। সাম্প্রতিক অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্রাজিলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেছে এবং আগের বছরের তুলনায় তা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই রপ্তানির বড় অংশ তৈরি পোশাক যেমন জার্সি, ট্রাউজার ও জ্যাকেট এবং এর ফলে ব্রাজিল বাংলাদেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল বাজারে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্রাজিল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য আমদানি করে থাকে বিশেষ করে চিনি, কাঁচা তুলা, এবং সয়াবিন। এই বাণিজ্য ঘাটতি ব্রাজিলকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে (কারণ ব্রাজিল বিশ্বে তুলা ও চিনির অন্যতম বৃহৎ উৎপাদক), একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ করে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোরও সুযোগ নির্দেশ করে। উভয় সরকারই এই সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে: উচ্চ পর্যায়ের সফর ও চুক্তিতে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে যে বাংলাদেশ ব্রাজিল উভয়ের জন্যই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে আরও বেশি লাভবান হওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে। শুল্ক কমিয়ে বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) বা বিশেষ সুবিধাভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থার কথাও আলোচনায় এসেছে।

 

সুযোগের মূল খাতসমূহ: বাংলাদেশ–ব্রাজিল সহযোগিতার জন্য বেশ কয়েকটি খাত বিশেষভাবে সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে:

  • টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল: ব্রাজিলের তরুণ জনসংখ্যা এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্তের কারণে পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। ব্রাজিলের টেক্সটাইল ও পোশাক আমদানির বাজার বড়, কিন্তু বাংলাদেশের অংশ এখনও তুলনামূলকভাবে সীমিত। বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই বাজারে বড় পরিসরে প্রবেশ করতে পারে বিশেষ করে যদি উচ্চ আমদানি শুল্কের মতো বাধা কমানো যায়। অনেক ব্যবসায়ী নেতা ব্রাজিলের সঙ্গে FTA করার ওপর জোর দিচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে বাজার সম্প্রসারণ টেকসই হয় (বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণের পর সময়ে)। ব্রাজিল যখন বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি “নতুন অর্থনৈতিক শক্তি” হিসেবে দেখছে, তখন পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য সম্ভাবনা খুবই শক্তিশালী।

 

  • পাট ও কৃষিপণ্য: বাংলাদেশ কাঁচা পাট উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষে এটি একটি পরিবেশবান্ধব আঁশ এবং ব্রাজিলে পাটজাত পণ্য ও কৃষিপণ্যের বহুমুখী চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশি পাট সুতা, পাট কাপড় এবং অন্যান্য কৃষিপণ্য (চা, মৎস্যজাত পণ্য ইত্যাদি) ব্রাজিলের বৃহৎ ভোক্তা বাজারে সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ ব্রাজিল থেকে কৃষিপণ্য ও কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানি করে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে কারণ ব্রাজিলের অর্থনীতি কৃষিক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। কৃষিতে সহযোগিতা যেমন ব্রাজিলের কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি বাংলাদেশে আনা দুই দেশের জন্যই লাভজনক হতে পারে।

 

  • ফার্মাসিউটিক্যালস ও স্বাস্থ্যখাত: ব্রাজিল বিশ্বের আকর্ষণীয় ও বড় ওষুধের বাজারগুলোর একটি কারণ এর জনসংখ্যা বড় এবং স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক ওষুধ শিল্প ব্রাজিলে যৌথ উদ্যোগ বা বিতরণ অংশীদারিত্ব গড়ে বাজারে প্রবেশ করতে পারে। উভয় সরকারই ফার্মাসিউটিক্যালস ও স্বাস্থ্যখাতে বাণিজ্যের বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছে। এতে বাংলাদেশ থেকে মানসম্মত জেনেরিক ওষুধ রপ্তানি, এমনকি ব্রাজিলে উৎপাদন বা প্যাকেজিং সুবিধায় বিনিয়োগের সুযোগও থাকতে পারে।

 

  • চামড়া ও নন-ট্র্যাডিশনাল রপ্তানি: ব্রাজিলের বিশাল ভোক্তা বাজার বাংলাদেশি চামড়াজাত পণ্য, জুতা, সিরামিকসহ অন্যান্য নন-ট্র্যাডিশনাল পণ্যের জন্যও ভালো সুযোগ। বাংলাদেশি ব্যবসাগুলোকে রপ্তানি বহুমুখীকরণে উৎসাহিত করা হচ্ছে যাতে ব্রাজিলের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো যায়। একই সঙ্গে, ব্রাজিলের চামড়া শিল্প বাংলাদেশ থেকে আধা-প্রস্তুত চামড়া সোর্স করতে আগ্রহী হতে পারে, যা সাপ্লাই চেইনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

 

  • বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগ: শুধু ক্রয়-বিক্রয় নয় যৌথ উদ্যোগ (JV)বিনিয়োগ ক্ষেত্রেও দুই দেশ সম্ভাবনা দেখছে। লাতিন আমেরিকার শীর্ষ অর্থনীতি হিসেবে ব্রাজিল হতে পারে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সীমান্ত যেমন টেক্সটাইল (লাতিন আমেরিকার বাজার ধরতে উৎপাদন ইউনিট), কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, বা ফার্মাসিউটিক্যালস। অন্যদিকে ব্রাজিলিয়ান কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে অবকাঠামো, জ্বালানি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ বিবেচনা করতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে MoU স্বাক্ষর এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্প সম্প্রসারণে সহায়তার উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে, যা অংশীদারিত্বের পরিবেশকে আরও অনুকূল করছে।

 

সার্বিকভাবে, বাংলাদেশ ও ব্রাজিল একে অপরকে ক্রমেই পরিপূরক অংশীদার হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন সক্ষমতা ব্রাজিলের বাজারের চাহিদা পূরণ করতে পারে, আর ব্রাজিলের প্রাকৃতিক সম্পদ ও প্রযুক্তি বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। সরকারিভাবে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে যে ফার্মাসিউটিক্যালস, স্বাস্থ্যখাত, পাট, পোশাক, খাদ্য কৃষি এই খাতগুলোতে উভয় দেশের জন্যই বাণিজ্য সম্ভাবনা অত্যন্ত বড়। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা (বাইলেটারাল চেম্বার) এবং সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির কারণে বাংলাদেশ–ব্রাজিল বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

 

ব্রাজিলে ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পাওয়ার উপায়
ব্রাজিলে ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পাওয়ার উপায়

ধাপে ধাপে নির্দেশিকা: ব্রাজিলে ক্রেতা, সরবরাহকারী বা যৌথ উদ্যোগ অংশীদার খোঁজা

ব্রাজিলে সঠিক ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পেতে হলে প্রোঅ্যাকটিভ ও কাঠামোবদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। আপনি বাংলাদেশি রপ্তানিকারক হিসেবে ব্রাজিলের ক্রেতা খুঁজুন, আমদানিকারক হিসেবে সরবরাহকারী খুঁজুন, অথবা বিনিয়োগকারী হিসেবে যৌথ উদ্যোগ অংশীদার নিচের ধাপগুলো আপনার জন্য কার্যকর নির্দেশিকা হতে পারে:

  1. গভীর বাজার গবেষণা করুন: শুরুতেই আপনার খাতের জন্য ব্রাজিলের বাজার সম্পর্কে গবেষণা করুন। আপনার পণ্য বা প্রকল্পের ক্ষেত্রে ব্রাজিলে চাহিদা, প্রতিযোগিতা বিধিমালা বুঝুন। ব্রাজিল একটি বিশাল দেশ তাই কোন রাজ্য বা অঞ্চলে আপনার পণ্যের সম্ভাব্য ক্রেতা বা অংশীদার বেশি, তা চিহ্নিত করুন (আঞ্চলিক ফোকাস অনেক সময় ফলপ্রসূ হয়)। ট্রেড ডেটা ব্যবহার করে দেখুন ব্রাজিল আপনার খাতে কী আমদানি করে এবং কোন দেশগুলো প্রধান সরবরাহকারী। একই সঙ্গে “Brazil reality check” করুন: আপনার পণ্যের সঠিক ট্যারিফ কোড, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা স্ট্যান্ডার্ড, এবং শুল্ক ও লজিস্টিকস যোগ করার পর আপনার মূল্য প্রতিযোগিতামূলক কিনা এসব নিশ্চিত করুন। অর্থাৎ, অংশীদার খোঁজার আগে ব্রাজিলের বাজার বাস্তবতা ও প্রবেশ শর্ত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করুন।
  2. সরকারি ও ট্রেড অর্গানাইজেশনগুলোকে কাজে লাগান: আন্তর্জাতিক ব্যবসা সহজ করতে যেসব বাণিজ্য সংস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করে, তাদের সহযোগিতা নিন। বাংলাদেশে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB) বাজার তথ্য দিতে পারে এবং বিদেশে ট্রেড ডেলিগেশন পরিচালনা করে। FBCCI এবং খাতভিত্তিক সংগঠনগুলোও পরিচিতি ও তথ্য সহায়তা দিতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়ছে বাজার তথ্য বিনিময়, SME এক্সচেঞ্জ এবং অংশীদারিত্ব সহজ করার মতো উদ্যোগ রয়েছে। ব্রাজিলের ApexBrasil (Brazilian Trade and Investment Promotion Agency) থেকেও ব্রাজিলের শিল্পখাত ও ব্যবসা পরিবেশ সম্পর্কে গাইডলাইন পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ব্রাজিলে বাংলাদেশের দূতাবাস ও ঢাকায় ব্রাজিলের দূতাবাস ব্যবসায়িক পরিচিতি, তথ্য ও যাচাই সহায়তায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারি চ্যানেলগুলো প্রায়ই রেপুটেড কোম্পানির তালিকা বা ট্রেড ইনফো সেশন রাখে যা সম্ভাব্য অংশীদার খোঁজার ভালো শুরু হতে পারে।
  3. চেম্বার অব কমার্স ও নেটওয়ার্কে যুক্ত হন: ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজার সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো বাইলেটারাল চেম্বার অব কমার্স এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক। এ ক্ষেত্রে Brazil Bangladesh Chamber of Commerce & Industry (BBCCI) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। BBCCI বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে কাজ করে। বিশেষ করে SME-এর জন্য চেম্বারের নেটওয়ার্ক অনুসন্ধান ব্যয় কমায় এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়। BBCCI সম্ভাব্য ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারক, ডিস্ট্রিবিউটর বা বিনিয়োগ অংশীদার চিহ্নিত করে ম্যাচমেকিং করতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া, অংশীদার যাচাই ও ডিউ ডিলিজেন্সে সহায়তা যেমন কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন, ট্র্যাক রেকর্ড, রেফারেন্স যাচাই ঝুঁকি কমাতে কার্যকর। এই নেটওয়ার্কে যুক্ত হলে আপনি একটি “trusted connector”–এর সাপোর্ট পান, যা দ্রুত ও নিরাপদভাবে উপযুক্ত লিড তৈরি করতে সাহায্য করে। পরবর্তী অংশে BBCCI’র ভূমিকা আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, তবে এই ধাপটি আপনার তালিকায় অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
  4. ট্রেড ফেয়ার, প্রদর্শনী ও ডেলিগেশনে অংশ নিন: ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়তে মুখোমুখি যোগাযোগের বিকল্প নেই। বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে ব্রাজিলে সেক্টরভিত্তিক ট্রেড ফেয়ার, এক্সিবিশন ও নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। উদাহরণ হিসেবে, সাও পাওলোতে “Made in Bangladesh Expo”–এর মতো উদ্যোগগুলো বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শন করে এবং দুই দেশের উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ করে দেয়। আপনার খাত অনুযায়ী ব্রাজিলের টেক্সটাইল এক্সপো, এগ্রিবিজনেস ফেয়ার, বা প্রযুক্তি সম্মেলনের মতো শোতে অংশগ্রহণ করলে আপনি একসঙ্গে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা, ডিস্ট্রিবিউটর ও বিনিয়োগকারীর সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন। অফিসিয়াল ট্রেড মিশন বা B2B ম্যাচমেকিং প্রোগ্রামেও যুক্ত থাকুন এগুলো প্রায়ই কম সময়ে উচ্চমানের লিড তৈরি করে। এসব ইভেন্টে অংশ নিতে গেলে প্রোডাক্ট ব্রোশিওর, ক্যাটালগ, স্যাম্পল (যদি সম্ভব হয়), এবং সম্ভব হলে পর্তুগিজ ভাষার বিজনেস কার্ড রাখুন এটি পেশাদার ইমপ্রেশন তৈরি করে।
  5. অনলাইন B2B প্ল্যাটফর্ম ও ডিরেক্টরি ব্যবহার করুন: ডিজিটাল যুগে প্রাথমিক সংযোগ অনেক সময় অনলাইনেই হয়। ব্রাজিল ও লাতিন আমেরিকা-কেন্দ্রিক কিছু পরিচিত B2B প্ল্যাটফর্মে ব্রাজিলিয়ান ও আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো সক্রিয়ভাবে পার্টনার খোঁজে। এসব প্ল্যাটফর্মে প্রোফাইল তৈরি করলে ব্রাজিলিয়ান ক্রেতাদের কাছে আপনার পণ্যের দৃশ্যমানতা বাড়ে। পাশাপাশি LinkedIn ব্যবহার করে আপনার খাতের ব্রাজিলিয়ান কোম্পানির সিদ্ধান্তগ্রহণকারী ব্যক্তিদের খুঁজে পেতে পারেন এবং ভদ্র ও নির্দিষ্ট আউটরিচ বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু করতে পারেন। তবে অনলাইন যোগাযোগে সতর্কতা জরুরি অপরিচিত বা সন্দেহজনক সোর্সের প্রস্তাবে তাড়াহুড়া করবেন না। কোম্পানির ওয়েবসাইট, ঠিকানা, রেজিস্ট্রেশন তথ্য (CNPJ), এবং ব্যবসায়িক উপস্থিতি যাচাই করুন। অনলাইন টুলগুলো আপনার পৌঁছানোর পরিধি বাড়ায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও যাচাই প্রক্রিয়ার বিকল্প নয়।
  6. কূটনৈতিক চ্যানেল ও সরকারি সহায়তা নিন: আপনার সরকার এবং ব্রাজিল সরকার—উভয়েরই কিছু সহায়তামূলক ব্যবস্থা থাকতে পারে। দূতাবাসের কমার্শিয়াল উইং অনেক সময় ব্যবসায়িক ডেটাবেস, বাজার ব্রিফ এবং কোম্পানি যাচাই সহায়তা প্রদান করে। ব্রাজিলে বাংলাদেশের দূতাবাস বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের তথ্য দিতে পারে এবং নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে। একইভাবে ঢাকায় ব্রাজিলের দূতাবাস বাংলাদেশের আমদানিকারকদের জন্য ব্রাজিলিয়ান সরবরাহকারী শনাক্তকরণে সহযোগিতা করতে পারে। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো ব্রাজিলকে নিয়ে ব্যবসায়িক ফোরাম বা ডেলিগেশন আয়োজন করলে সেগুলো কাজে লাগান। এসব অফিসিয়াল চ্যানেল আস্থার স্তর বাড়ায় এবং ভিসা, ভাষা, আইনি প্রশ্ন বা প্রাথমিক যোগাযোগ এসব ক্ষেত্রেও সহায়ক হয়।
  7. সম্ভাব্য অংশীদার মূল্যায়ন ও যাচাই করুন: সম্ভাব্য ব্রাজিলিয়ান অংশীদার তালিকা তৈরির পর মূল কাজ হলো ডিউ ডিলিজেন্স। যেকোনো চুক্তির আগে কোম্পানির বৈধতা ও সক্ষমতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। প্রথমে মৌলিক বিষয়গুলো যাচাই করুন: কোম্পানিটি ব্রাজিলে আইনগতভাবে নিবন্ধিত কিনা (বৈধ ব্যবসার CNPJ থাকে), ব্যবসায়িক ঠিকানা ও উপস্থিতি, ওয়েবসাইট ও যোগাযোগ মাধ্যম। ক্রেতা/ডিস্ট্রিবিউটর হলে তাদের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক, তারা কোন ব্র্যান্ড বা পণ্য ইমপোর্ট করে, এবং বাজার কভারেজ এসব জানুন। সরবরাহকারী হলে ক্যাটালগ, কোয়ালিটি সার্টিফিকেশন ও স্যাম্পল চান। যৌথ উদ্যোগ অংশীদার হলে তাদের আর্থিক সক্ষমতা, ইন্ডাস্ট্রি রেপুটেশন, পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং পরিচালন কাঠামো বোঝার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ব্রাজিলের স্থানীয় কনসালট্যান্ট বা থার্ড-পার্টি ভেরিফিকেশন সার্ভিস ব্যবহার করুন। নিরাপদ পদ্ধতি হলো ধীরে এগোনো: প্রথমে স্যাম্পল, এরপর ট্রায়াল অর্ডার, তারপর বড় অর্ডার এই ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া। অবশ্যই লিখিত চুক্তি করুন এবং সাংস্কৃতিক পার্থক্য বিবেচনায় রেখে ধৈর্যসহকারে আস্থা তৈরি করুন কারণ ব্রাজিলের ব্যবসায়িক সংস্কৃতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ।
  8. কমপ্লায়েন্স ও লজিস্টিকস আগেই নিশ্চিত করুন: ভালো অংশীদার পাওয়াই যথেষ্ট নয়; চুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়ন করাটাই আসল। অংশীদার চূড়ান্ত করার সময়ই উভয় পক্ষ মিলে নিয়ন্ত্রক ও লজিস্টিকস বিষয়গুলো স্পষ্ট করুন। ব্রাজিলের আমদানি প্রক্রিয়া ও স্ট্যান্ডার্ড অনেক ক্ষেত্রে জটিল হতে পারে। রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে ক্রেতার সাথে নির্ধারণ করুন কে আমদানি লাইসেন্স, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, এবং লেবেলিং/স্ট্যান্ডার্ড কমপ্লায়েন্স দেখবে এগুলো শিপমেন্টের আগেই ঠিক করা জরুরি। অনেক ডিল দেরিতে সার্টিফিকেশন বা ডকুমেন্ট প্রয়োজনীয়তা ধরা পড়ায় সমস্যায় পড়ে। একইভাবে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা ব্রাজিলিয়ান সরবরাহকারীর সাথে রপ্তানি ডকুমেন্টেশন, মান যাচাই এবং সময়সূচি পরিষ্কার করুন। ব্রাজিল ট্রেডে অভিজ্ঞ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার বা কাস্টমস ব্রোকার ব্যবহার করলে ঝুঁকি কমে। পেমেন্ট মেথড LC না ওপেন অ্যাকাউন্ট এগুলোও নিরাপত্তা বিবেচনায় যৌথভাবে নির্ধারণ করুন। এভাবে বাস্তবায়নের বিষয়গুলো আগেই ঠিক করলে আস্থা বাড়ে এবং অংশীদারিত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়।

 

উপরের ধাপগুলো অনুসরণ করলে বাংলাদেশি ব্যবসাগুলো ব্রাজিলের বাজারে কাঠামোবদ্ধভাবে এগোতে পারবে এবং ফলপ্রসূ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পারবে। গবেষণা, নেটওয়ার্কিং, ডিউ ডিলিজেন্স এবং বাস্তবায়ন প্রতিটি ধাপই গুরুত্বপূর্ণ। সারকথা হলো: হোমওয়ার্ক করুন, প্রতিষ্ঠিত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন এবং ধীরে ধীরে বিশ্বাস তৈরি করুন। ব্রাজিল দূরের দেশ মনে হলেও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশ–ব্রাজিল সংযোগের ফলে সঠিক প্রচেষ্টায় উপযুক্ত অংশীদার খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

 

brazil bangladesh chamber
brazil bangladesh chamber

Brazil Bangladesh Chamber of Commerce & Industry (BBCCI)–কে কাজে লাগানো

ব্রাজিলে ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজার ক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: Brazil Bangladesh Chamber of Commerce & Industry (BBCCI)। BBCCI হলো একটি দ্বিপাক্ষিক চেম্বার, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে কাজ করে এবং ব্রাজিলের বাজারে প্রবেশে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর জন্য এটি একটি “গেম-চেঞ্জার” হতে পারে। BBCCI বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। বাংলাদেশি রপ্তানিকারক বা বিনিয়োগকারীদের জন্য BBCCI বিশ্বাসযোগ্যতা কানেকশন–এর এমন একটি প্ল্যাটফর্ম দেয়, যা অংশীদার অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে অনেক দ্রুত ও কার্যকর করতে পারে।

 

BBCCI কী সুবিধা দেয়: সদস্যভিত্তিক একটি নন-প্রফিট সংস্থা হিসেবে BBCCI’র লক্ষ্য হলো নেটওয়ার্কিং, অ্যাডভোকেসি ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ সহজ করা। বাস্তব প্রেক্ষিতে এর মানে হলো:

  • নেটওয়ার্কিং ও ম্যাচমেকিং: BBCCI ইভেন্ট, B2B মিটিং এবং ট্রেড মিশনের আয়োজন করে, যেখানে ব্রাজিলিয়ান ও বাংলাদেশি কোম্পানিরা সরাসরি মিলিত হতে পারে। চেম্বারটি সক্রিয়ভাবে SME–দের সম্ভাব্য ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারক, ডিস্ট্রিবিউটর বা JV অংশীদারের সাথে ম্যাচমেকিং করতে কাজ করে এবং দুই দেশের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। BBCCI’র মাধ্যমে পরিচিতি হলে আস্থার উপাদান যোগ হয় কারণ চেম্বারের নেটওয়ার্কে যুক্ত পক্ষগুলো সাধারণত সিরিয়াস ও কিছুটা ভেটেড বলে ধরে নেওয়া যায়।

 

  • মার্কেট ইন্টেলিজেন্স: BBCCI বাজার গবেষণা, সেমিনার এবং ব্রাজিলের ব্যবসায়িক পরিবেশ বোঝার জন্য গাইডলাইন দেয়। আপনার পণ্যের জন্য ব্রাজিলের কোন রাজ্য বা কোন ট্রেড চ্যানেল বেশি বাস্তবসম্মত এ ধরনের বাস্তব পরামর্শ চেম্বারের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব। ট্রেড রেগুলেশন, কাস্টমস, এবং সাংস্কৃতিক পার্থক্য এসব বিষয়ে জ্ঞান সরবরাহ করে চেম্বার নতুনদের জন্য শেখার সময় কমিয়ে দেয়।

 

  • বিশ্বাসযোগ্যতা ও মধ্যস্থতা: বিশেষ করে SME–দের জন্য BBCCI একটি বিশ্বাসযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে। চেম্বার কোনো ডিলের গ্যারান্টর না হলেও, তাদের “রেপুটেশন মেকানিজম” থাকায় নেটওয়ার্কের ভেতর থেকে আসা ব্যবসাগুলো সাধারণত তুলনামূলকভাবে বিশ্বাসযোগ্য। BBCCI ডিউ ডিলিজেন্স করতে উৎসাহিত করে যেমন পার্টনার যাচাই এবং ছোট পরিসরে শুরু করে ধাপে ধাপে বড় চুক্তিতে যাওয়া ফলে ঝুঁকি কমে। ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি হলে চেম্বারের উপস্থিতি সম্পর্ক রক্ষা ও সেতুবন্ধনে সহায়ক হতে পারে।

 

  • অ্যাডভোকেসি ও সমস্যা সমাধান: সদস্যরা নীতি বা রেগুলেটরি সমস্যায় পড়লে BBCCI সরকারী সংস্থার সাথে যোগাযোগ বা গাইডলাইন দিয়ে সহায়তা করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো বাংলাদেশি রপ্তানিকারক ব্রাজিলের কাস্টমস ইস্যুতে সমস্যায় পড়লে, চেম্বার দিকনির্দেশনা বা সহায়তার মাধ্যমে সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। সম্ভাব্য PTA/FTA অগ্রগতি বা নীতি পরিবর্তন সম্পর্কে আপডেট দিয়ে সদস্যদের পরিকল্পনা করতে সাহায্য করা BBCCI’র অন্যতম মূল্যবান ভূমিকা।

 

  • সংস্কৃতি ও ভাষাগত সেতুবন্ধন: BBCCI’র ইভেন্ট ও ট্রেড মিশনে অনেক সময় দোভাষী বা দ্বিভাষিক বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ থাকে। এছাড়া “Made in Bangladesh Expo”–এর মতো উদ্যোগে সাংস্কৃতিক বিনিময়ও জোরদার হয়, যা ব্যবসায়িক আলোচনাকে সহজ করে। সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া বাড়লে ব্রাজিলের ব্যবসায়িক শিষ্টাচার ও আলোচনার ধরন বুঝতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা সুবিধা পান।

 

BBCCI–তে যোগ দিন এবং সুবিধা নিন: ব্রাজিলে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য BBCCI–র সদস্য হওয়া একটি বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত। সদস্য হলে আপনি নেটওয়ার্কিং, পরিচিতি, ইভেন্ট অংশগ্রহণ ও বাজার তথ্যসহ উপরোক্ত সুবিধাগুলো সরাসরি পাবেন। চেম্বারের নেতৃত্বে অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী ও নীতিজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিরা থাকেন, যারা বাজার প্রবেশ কৌশলে দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। সারকথা BBCCI ব্রাজিলে সম্প্রসারণের শেখার সময় কমিয়ে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা, নেটওয়ার্ক এবং অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে আপনার পাশে দাঁড়াতে পারে।

আহ্বান BBCCI’সাথে সংযোগ করুন: BBCCI’র সেবা গ্রহণের জন্য সদস্যপদ বা ইভেন্ট অংশগ্রহণ বিষয়ে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। বাংলাদেশি রপ্তানিকারক, আমদানিকারক এবং যৌথ উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের BBCCI’সদস্য হওয়ার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে তারা চেম্বারের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দ্রুত ও নিরাপদভাবে ব্রাজিলিয়ান অংশীদার খুঁজে পেতে পারেন। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন: +8801553676767, ইমেইল: info@brazilbangladeshchamber.com, ওয়েবসাইট: brazilbangladeshchamber.com

 

উপসংহার

ব্রাজিল সব খাতের বাংলাদেশি ব্যবসার জন্য একটি বড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় বাজার। বাংলাদেশ–ব্রাজিল বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং উচ্চপর্যায়ের পারস্পরিক যোগাযোগ প্রমাণ করে যে দুই অর্থনীতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংযুক্ত হচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সক্রিয়ভাবে ব্রাজিলিয়ান অংশীদার খুঁজতে হবে যারা হতে পারে পণ্য ক্রয়ের জন্য ক্রেতা, কাঁচামাল বা পণ্য সরবরাহের জন্য সরবরাহকারী, কিংবা যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ অংশীদার। বাজার বাস্তবতা বোঝা এবং ধাপে ধাপে কাঠামোবদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণ করলে কোম্পানিগুলো এমন অংশীদার বেছে নিতে পারবে যারা ব্রাজিলের বিশাল বাজার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে BBCCI’র মতো নেটওয়ার্ক এবং দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগগুলো কাজে লাগালে সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায় কারণ এগুলো স্থানীয় জ্ঞান, পরিচিতি এবং বিশ্বাসযোগ্যতা যোগ করে।

 

সারসংক্ষেপে, ব্রাজিলে ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পাওয়া একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য যদি এটি পদ্ধতিগতভাবে করা হয়। প্রতিষ্ঠিত চ্যানেলের মাধ্যমে গবেষণা ও আউটরিচ শুরু করুন; মিটিং ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যোগাযোগ বাড়ান; এবং চুক্তির আগে সবসময় পার্টনার যাচাই করুন। সঠিক প্রস্তুতি ও সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা ব্রাজিলিয়ান ক্রেতা পেতে পারে, আমদানিকারকরা নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী খুঁজে পেতে পারে, এবং বিনিয়োগকারীরা এমন যৌথ উদ্যোগ গড়তে পারে যা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সেতুবন্ধন তৈরি করবে। বাংলাদেশ–ব্রাজিল অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল এখনই উদ্যোগ নেওয়ার সময়। যথাযথ প্রস্তুতি এবং উপলব্ধ সব রিসোর্স কাজে লাগালে বাংলাদেশি ব্যবসা আত্মবিশ্বাসের সাথে ব্রাজিলের বাজারে প্রবেশ করে দীর্ঘস্থায়ী, পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.
*
*